muktokothon.com

সংবিধান কোনো ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার হতে পারে না।

আমি মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও জিহাদীদের ঘৃণা করি। যখন তারা ফুল হাতে এগিয়ে আসে ঠিক তখনও।

ধর্ম ইসলামের নামে, কোরান, হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা, অপব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী আইন, শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপরীত চিত্র। এবং এ চিত্র যে/যারাই বাস্তবায়ন ঘটাতে চায়, এখানে সে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বেশ পরিষ্কার। এদের একটি ভিন্ন কিন্তু অভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

ধর্ম ইসলাম সাধারণ মুসলমানদের নৈতিক হতে শেখায়। এখানে সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধের অবস্থান। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এর বিপরীত। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” যুক্ত আছে। এবং ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর পরও এটি বহাল রাখা হয়। অন্যদিকে, অনুচ্ছেদ ২ক-তে বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।” কিন্তু এর মধ্য দিয়ে দেশের সংবিধান ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আদলে আগ্রাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যাযজ্ঞের রাজনীতি ও প্রকৃত ইসলামের বিপরীত রূপটিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের এক ধরনের বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

৫৭ হাজার বর্গমাইলের এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও ভিন্ন পরিচয়ের জাতিগোষ্ঠীর বসবাস পরম্পরা ধরে। কিন্তু যে সংবিধান রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে, সে সংবিধানই বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকারকে সংকুচিত করেছে ধর্ম ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে। যে সংবিধান একজন সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে পারে না, তাঁর জীবনযাত্রা ও স্বাধীনতার অধিকার দেশের মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর নিকট কুক্ষিগত করার পদ্ধতিকে অনুমোদন দেয়, সে সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে হবে। এ সংবিধান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের হতে পারে না। সংবিধান হতে হবে নাগরিকবান্ধব। যেখানে সকল নাগরিক সমানভাবে সুরক্ষিত।

বাংলাদেশের সংবিধান একটি আত্মসিকৃত মৌলবাদের দলিলে পরিণত হয়েছে। যেখানে সংবিধান ধর্মীয় কর্তৃত্বের উৎসে পরিণত হয়েছে, যা এ দেশের জিহাদি, জঙ্গি ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা, খেলাফত বাস্তবায়ন ও ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে।

এ সংবিধান পরিবর্তন ও পরিমার্জন প্রয়োজন। যেখান থেকে ধর্মভিত্তিক সকল উপকরণকে মুছে ফেলতে হবে। যাতে করে এ দেশে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে কোনো এজেন্ডাতেই যেন ধর্মীয় মৌলবাদ, আতঙ্কবাদীরা সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। মুক্তচিন্তা, নারীবাদ, মানবতা, রাজনীতি, প্রতিবাদ ও সহাবস্থান নিয়ে এ দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে বসবাস করবে।

মন্দিরে ঘণ্টা বাজবে-পূজা অর্চনা হবে, মসজিদের মিনারে আজান হবে, গির্জা ও প্যাগোডায় হবে প্রার্থনা; সেখানে সংবিধান কোনো ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার হতে পারে না। আজকের বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে আড়ম্বর, এর পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী বাংলাদেশের সংবিধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *