পাণ্ডুলিপির স্তূপ থেকে মুক্তির মিছিলে: ‘মুক্তকথন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা!!

একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

সবকিছুরই একটি সঠিক সময় থাকে। এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নিজের মৌলিক কিছু করার তীব্র তাগিদ অনুভব করছিলাম। কিন্তু কী করব, কীভাবে শুরু করব—এসব ভাবতে ভাবতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। মাথায় হাজারো আইডিয়া থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় বারবার থমকে যেতে হয়েছে। তবে আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ থেকে যাত্রা শুরু হলো ‘মুক্তকথন’-এর।

এটি কেবল আমার নয়, আমাদের সবার

অনেকে ভাবতে পারেন এটি হয়তো স্রেফ আমার ব্যক্তিগত কোনো ডায়েরি। কিন্তু সত্যটা হলো, এই ওয়েবসাইটটি আমার একার জন্য নয়; এটি আমার মতো সেই লাখো নবীন ও অদম্য লেখকের জন্য, যাদের কথা, ভাব এবং চিন্তা সুপ্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাণ্ডুলিপির ভিড়ে চাপা পড়ে যায়।

আমাদের সমাজে অসংগতি, প্রতিবাদ, অস্বচ্ছতা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে যখন একজন সাধারণ মানুষ লিখতে চায়, তখন তাকে এক দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পত্রিকা বা অনলাইন পোর্টালে লেখা পাঠানোর পর দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, যখন লেখাটি প্রকাশিত হয়, ততদিনে ওই সমস্যাটির চেয়ে বড় কোনো সংকট সমাজে চলে এসেছে। ফলে ওই প্রতিবাদের ধার হারিয়ে যায়।

মুক্তকথন কেন ভিন্ন?

আমাদের সমাজের ছোট লেখকদের জন্য বড় এক অপবাদ হলো—কষ্ট করে কিছু লিখলে মানুষ বলে, “টাকা দিয়ে লিখিয়েছ” বা “টাকা খেয়ে লিখেছ”। এই যে লেখককে তার মেধার স্বীকৃতি না দিয়ে তার ওপর টাকার তকমা লেপে দেওয়া, এটি একজন সৃজনশীল মানুষের জন্য চরম বেদনাদায়ক। আমাদের সমাজের নানা তিক্ত, মিষ্টি এবং বেদনার অভিজ্ঞতা থেকেই এই প্ল্যাটফর্মের জন্ম।

আমরা এখানে এমন একটি সহজ মাধ্যম দিতে চাই যেখানে:

  • লেখকের স্বর হবে স্বাধীন এবং স্বচ্ছ।
  • প্রকাশের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না।
  • কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা অর্থের চাপে আপনার কলমকে থামিয়ে দেওয়া হবে না।

আমাদের অবস্থান: মানবতার পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে

মুক্তকথন কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে নয়। আমরা কথা বলতে চাই একজন ‘মানুষ’ হিসেবে মানুষের জন্য। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট:

গাজার শিশুদের পাশে: আমরা গাজার নিষ্পাপ শিশুদের পাশে আছি এবং নির্বিচার ইসরায়েলি ইহুদীবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠ সোচ্চার।

নির্যাতিতের সাথে: ভারতে নির্যাতিত মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে এবং মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন।

বোমাবাজির বিরুদ্ধে: পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানে তথাকথিত মুসলিম বাহিনীর বোমা হামলায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, নারী এবং বয়স্ক মানুষের পাশে আমাদের অবস্থান। আমরা যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও বোমাবাজির তীব্র বিরোধী।

মানবাধিকার ও আইনের শাসন: আমাদের মূল কথা একটাই—মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না। নিরীহ মানুষের ওপর অপরাজনীতির করাল থাবা চলতে দেওয়া হবে না। সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন বাস্তবায়ন হতে হবে—এটিই আমাদের একমাত্র দাবি।

আসুন, আমরা সকলে মিলে স্বাধীনভাবে শুরু করি

মুক্তকথন কোনো নির্দিষ্ট মতবাদের চশমা দিয়ে জগতকে দেখে না। প্রথাগত সংবাদের ভিড়ে যেখানে মৌলিক বিশ্লেষণগুলো হারিয়ে যায়, সেখানে মুক্তকথন হবে আপনার নির্ভীক আশ্রয়।

আজ থেকে এই ডিজিটাল মহাকাশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ছিঁড়ে ফেলি চিন্তার সব শেকল। শুরু হোক এক নতুন পথচলা। মুক্তকথন — শেকলহীন চিন্তার প্রতিধ্বনি।

আপনাদের মতামতই আমাদের অগ্রজ হওয়ার শক্তি:

মুক্তকথন কেবল একটি ওয়েবসাইট নয়, এটি একটি সম্মিলিত স্বর। আমাদের আগামীদিনের লেখাগুলো সবার আগে পেতে এবং প্রতিটি মানবিক সংকটে আপনার রায় দিতে নিচের মাধ্যমগুলোতে আমাদের সাথে থাকুন:

ফেইসবুক: https://www.facebook.com/profile.php?id=61588975751845

টুইটার (X): https://x.com/MuktoKothon

1 Comment

  • সজীব ওয়াহেদ

    সুস্বাগতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2026 – Muktokothon | All Rights Reserved. powered by Emon